নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করবেন নতুন চাকরি শুরু করার সময়

যেকোন চাকরি শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যে আপনি যে ধরণের কাজ করেন বা যে ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, পরবর্তীতে সেই কাজ বা সিদ্ধান্তগুলোই আপনার চাকরিতে সফল বা ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। এই সময়ে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেটি হল সঠিক বিষয়গুলোর প্রতি ফোকাস রাখতে না পারা। তাই নিজেকে সঠিক পথে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন, যেগুলো কর্মক্ষেত্রে আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি, আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী করতে সাহায্য করবে।  তাই এই সময়ে যেকোন ভুল পদক্ষেপ আপনার পরবর্তী চাকরি জীবনে অনেক বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে চাকরি জীবনের শুরুর দিকেই নিজের কর্মক্ষেত্রে নিজের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী করার।
 
আমি কীভাবে নিজের অবস্থান তৈরী করব?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপনাকে নিজের অবস্থান তৈরির জন্য কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। যেমন: আপনাকে কেন এই চাকরিতে নেওয়া হয়েছে? আপনাকে যে ধরণের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে আসলে সেগুলো আপনাকে কেন করতে দেয়া হচ্ছে? যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে সেটি কি আপনার জন্য বেশি নাকি কম? এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর আপনার নিজে থেকে খুঁজে বের করতে হবে। একই সাথে আপনাকে শুধু এটা খেয়াল রাখলেই হবে না যে আপনার উপরস্থ কর্মকর্তা আপনার কাছে থেকে কী চান,  আপনাকে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার কর্মস্থলের মানুষগুলো আপনার থেকে কী আশা করেন৷ এটি আপনার সাথে তাদের সুসম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি তাদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়াবে।

আমার কী ধরণের আচরণ করা উচিত?


 

আপনার আচরণ আপনার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করে। তাই যেকোন প্রতিষ্ঠানের নিয়ম শৃংখলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আচরণ করা উচিত। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজেস্ব সংস্কৃতি রয়েছে যা তারা যেকোন অবস্থায় অনুসরণ করার চেষ্টা করে৷ এই কালচার বা সংস্কৃতি চর্চা কর্মক্ষেত্রে “ভুল চিন্তা” বা “অসংগতি পূর্ণ আচরণ” থেকে বিরত রাখে। আপনি হয়ত আগে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার জন্য সে প্রতিষ্ঠানের কালচারে অনেক বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আপনি যখন নতুন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে নতুন করে সব শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন করে শিখতে হবে।

কাদের কাছে সাহায্য প্রত্যাশী হব?
প্রাথমিকভাবে আপনাকে আপনার নতুন কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝা দরকার। এবং জানতে হবে আপনার কোম্পানিতে কোন ব্যক্তি বা কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব রাখে৷ কার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন? তারা আপনাকে কীভাবে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করতে পারে? আপনি কীভাবে তাদের কাছে থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন? এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। সাধারণত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংস্থার অন্যান্য মানুষের সাথে আপনার সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি শুরু হয়। পাশাপাশি অন্যদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

কীভাবে নিজেকে জয়ীদের পাশে জায়গা দেব?
কাজের শুরু থেকেই সফলতার স্বাদ পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। একই সাথে আপনার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি পড়তে সাহায্য করে। চেষ্টা করুন আপনাকে যে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে৷ ভুল কম করার চেষ্টা করুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ করার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি আপনার প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলের মধ্যে নিজের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরী করার চেষ্টা করুন।

নিজেকে গড়ে তোলার জন্য আমার আরো কী কী দক্ষতা থাকা প্রয়োজন?
আপনি এতদিন যে ধরণের কাজ করে এসেছেন বা যে ধরণের কাজে আপনি পটু, নতুন কর্মক্ষেত্রে হয়ত এইগুলোর কোনটিই আপনাকে সাহায্য করবে না। আপনাকে নতুন করে নতুন কাজ বা নতুন স্কিল শিখতে হতে পারে৷ তাই সময়ের সাথে নিজের দক্ষতাগুলো বৃদ্ধি করতে থাকুন। নিজের Comfort Zone থেকে বের হয়ে আসুন। নতুন নতুন স্কিল শিখুন। আপনার দুর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করুন এবং কীভাবে সেগুলো কাটিয়ে ওটা যায় সেটির জন্য কাজ করুন। আপনার জুনিয়র হয়ত কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ, তার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন। নিজের অহংকার এবং কর্তৃত্বপূর্ণ মানসিকতা দূরে রাখুন। স্কিল ডেভলপমেন্ট এর পাশাপাশি ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উন্নত করার ব্যাপারে মনোযোগ দিন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং উত্তর সম্পর্কে ভালো করে ভাবুন। নিজের দুর্বলতা এবং উন্নয়নের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে কাজ করুন। নিজেকে করা এই প্রশ্নের উত্তরগুলোই আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 − 15 =