গুগলে চাকরি পেতে চাইলে

গুগলে কাজ করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। ভালো প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে গুগলের ইন্টারভিউতে ভালো করা অসম্ভব কিছু নয়। শুরুতেই বলে রাখা ভালো, অনেকভাবেই গুগলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যায়। আমি যেহেতু প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করেই এই পর্যায়ে এসেছি, তাই আমার লেখাটায় কনটেস্টের দিকে কিছুটা পক্ষপাত থাকবে। 

ইন্টারভিউ
প্রথমে আসি গুগলের ইন্টারভিউর ধাপগুলোয়। প্রথমেই ইন্টারভিউর জন্য ডাক পাওয়া। আমার কাছে এ ধাপটিই সবচেয়ে বড় বাধা মনে হয়েছে। প্রতিবছর অসংখ্য প্রার্থী গুগলে আবেদন করে থাকে। তাই নিয়োগকর্তাদের পক্ষে সবাইকে  ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা সম্ভব হয় না। আবার মাথা গণনার ওপরও নির্ভর করে যে কতগুলো পদ ফাঁকা আছে। 

ভালো সিভি ও প্রোগ্রামিং দক্ষতা
প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এখানে একটি বড় সহায়ক। এখানে যেহেতু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হয়, তাই নিয়োগকর্তারা সহজে আপনার যোগ্যতা মাপতে পারে। প্রতিবছরই অনেক ধরনের কনটেস্ট হয়, যেমন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, হ্যাকাথন এগুলোর আয়োজন করে থাকে। আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে Codeforces, Google-এর  codejam, hashcode, kickstart ইত্যাদি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হয়। এখানে ভালো কৃতিত্ব দেখাতে পারলে ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া সহজ হয়। এর বাইরে যদি সফট্ওয়্যার ডেভেলপমেন্টে ভালো অভিজ্ঞতা থাকে, সেটাও কাজে দেয়। এভাবে নিজের সিভিকে সুন্দর করে তুলে কোনো গুগলার রেফারালের মাধ্যমে প্রথম ধাপ পার করা সম্ভব বলেই আমি মনে করি।

ইন্টারভিউর প্রস্তুতি
এখন আসি ইন্টারভিউর প্রস্তুতিতে। গুগলের ইন্টারভিউয়ে সমস্যা সমাধান এবং কোডিং দক্ষতার বিকল্প নেই। ইন্টারভিউ সাধারণত দুটি ধাপে হয়। প্রথম একটা ফোন ইন্টারভিউ কল। এখানে ভালো করতে পারলে অনসাইটে হবে। করোনার কারণে এটা এখন ভার্চুয়ালি হয় অনলাইনে।

প্রতিবছর অসংখ্য প্রার্থী গুগলে আবেদন করে থাকে। তাই নিয়োগকর্তাদের পক্ষে সবাইকে  ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা সম্ভব হয় না।

সমস্যার সমাধান এবং কোডিং দক্ষতা
সমস্যার সমাধান এবং কোডিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রোগ্রামিং কনটেস্টগুলো অনেক কার্যকরী। এই দক্ষতা একদিনে তৈরি হয় না। অনেক অনুশীলন করতে হবে। ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। অনেক সময় হতাশা হানা দিতে পারে যে কোনো উন্নতি হচ্ছে না, কিন্তু হতাশ হয়ে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এখন তো অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স পাওয়া যায়, তাই অনুশীলন করা অনেক সহজ। সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ডেটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদমও শিখতে হবে।

যোগাযোগের দক্ষতা
সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি  গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা দক্ষতা হলো যোগাযোগের দক্ষতা। আপনি সমস্যা সমাধানে বেশ দক্ষ, কিন্তু কাউকে আপনার চিন্তাভাবনা বোঝাতে পারেন না। তাহলে এটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। ইন্টারভিউর শুরুতেই কিন্তু সমস্যা সমাধান করতে দেবে না। আপনাকে ইন্টারভিউয়ারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিভিন্ন প্রশ্ন করতে হবে, বুঝতে হবে আসলে তিনি কী চাইছেন। এরপর আপনার সমাধানের উপায় তাঁর সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। এখন তিনি যদি আপনার সমাধান না বোঝেন বা আপনি সমস্যা না বুঝতে পারেন, তাহলে হবে না।

গুগলিনেস 
এ ছাড়া গুগলের একটা স্পেশাল রাউন্ড আছে ‘গুগলিনেস’। এটা মূলত মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা ইত্যাদি বোঝার জন্য নেওয়া হয়ে থাকে। এটাকে আচরণিক পর্যায়ও বলা যায়। কোনো একটা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে আচরণ করবেন, তা বোঝার জন্য। এটা শুনতে রাশভারী হলেও আসলে মজার একটি ধাপ। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই পার পেয়ে যাওয়া যায়। এর বাইরে আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করা হবে। অনলাইনে প্রচুর আচরণিক প্রশ্নের রিসোর্স আছে।

কিছু বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে হুট করে প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া যায়। যেমন একটা জনপ্রিয় প্রশ্ন হলো– কেন গুগলে কাজ করতে চান? ইন্টারভিউ রাউন্ড পার করতে পারলেই আসলে মোটামুটি কনফার্ম যে আপনি গুগলে অফার পাবেন। এরপর কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে, যেমন টিম ম্যাচিং, অফার নেগোশিয়েশন ইত্যাদি। শেষ কথা হলো– তিনটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা সমাধান, কোডিং ও যোগাযোগ দক্ষতা।  গুগলের রেফারালও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রেফারাল ছাড়া কেউ কেউ ডাক পায় ইন্টারভিউতে কিন্তু সেটা খুবই কম। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে যোগাযোগ রাখলে ভালো হয়। এতে গ্রাজুয়েশন পরে রেফার পাওয়া সহজ হবে।

অনুলিখন: জুবায়ের আহম্মেদ

Image Source: ajkerpatrika

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 3 =