মাবিয়ার সেরায় ফেরার আনন্দ |

২০১৬-র এসএ গেমসে স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৯ কেজি তুলেছিলেন মাবিয়া আক্তার। প্রতিপক্ষের ভুলে সোনা জয়ের জন্য সেটিই যথেষ্ট হয়েছিল। কিন্তু মাবিয়ার সেরা ছিল না তা। দেশে ফিরে আন্ত সার্ভিস ভারোত্তোলনে রেকর্ড গড়েন ১৭৯ কেজি তুলে। এবারের বাংলাদেশ গেমসে নিজের সেই রেকর্ডটাও ছাড়িয়ে গেছেন দুটি এসএ গেমসের স্বর্ণকন্যা।

ময়মনসিংহে হওয়া এবারের গেমস ভারোত্তোলনে স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক এবং মোট ওজন তিনটিতেই নতুন রেকর্ড হয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে তিনি তুলেছেন ১৮১ কেজি। মাবিয়ার জন্য সবচেয়ে আনন্দের হলো পছন্দের ওজনশ্রেণিতে ফিরেই নিজের সেরাটা দেখাতে পেরেছেন। ২০১৬-তে ৬৪ কেজি ওজনশ্রেণিতে সোনা জিতেছিলেন এসএ গেমসে। ২০১৯-এ সেই ওজন বেড়ে ৭০ ছাড়ালেও মাবিয়া সোনাটা হাতছাড়া করেননি। তবে জানেন ৬৪-তেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য, সেই ওজনশ্রেণিতেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তাঁর। এবারের গেমসের আগে সেই লড়াই-ই করেছেন তিনি। করোনা ছিল, অনুশীলনে ব্যাঘাত এসেছে, কিন্তু মাবিয়া যে লড়াই করেই এত দূর এসেছেন। তাই করোনাকেও অজুহাত মানেননি। কাল রেকর্ডের পর ফোনের অন্য প্রান্তেও তাই শোনা গেছে তাঁর উচ্ছ্বাস, ‘সত্যি খুব ভালো লাগছে। সময়টা অনেক কঠিন ছিল, তার মাঝেও যে নিজের সেরায় ফিরতে পেরেছি, এই সোনাটা সে জন্য তাই বিশেষই হয়ে থাকবে আমার কাছে।’ এসএ গেমসের স্বর্ণকন্যাদের মধ্যে কাল কারাতের হুমায়রা আক্তার, মারজান আক্তারও হেসেছেন সোনার হাসি। হুমায়রা আগের দিন একক কাতায় বান্দরবানের নুমে মারমার কাছে হেরে গেলেও কাল ৬১ কেজি কুমিতে সোনা জিতে নিয়েছেন আনসারের এই কারাতেকা। এসএ গেমসেও তাঁর একমাত্র সোনাটি ছিল কুমিতে। কাঠমাণ্ডুর আরেক সোনাজয়ী মারজান আক্তার সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিতে হেরে গিয়েছিলেন হুমায়রার ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে। কাল সেই জান্নাতকে হারিয়েই তিনি জিতেছেন বাংলাদেশ গেমসের সোনা। গত এসএ গেমসে হাসান খান প্রত্যাশা মেটাতে না পারলেও বাংলাদেশ গেমসে ঠিকই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন। দলগত কাতার সঙ্গে একক কাতাও জিতেছেন ২০১০ এসএ গেমসের সোনাজয়ী।

গেমসে কাল ছেলেদের ফুটবলের সোনা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে সিলেটকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী। ইমন ও সঞ্জয় করেছেন গোল দুটি। ক্রিকেটে চট্টলা ইস্ট জোনকে হারিয়ে ফাইনালে বরেন্দ্র নর্থ জোন। আজ জাহাঙ্গীরাবাদ সেন্ট্রাল ও চন্দ্রদ্বীপ সাউথ মুখোমুখি হবে সেমিফাইনালে। এদিকে বাস্কেটবলের ফাইনালে উঠেছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। তায়কোয়ান্দোতে সোনা জিতেছেন আলোচিত ফুটবলার মাইনু মারমা। বসুন্ধরা কিংসে গত মৌসুমেও চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তিনি। এবার অবশ্য অন্য দলে। ফুটবল ক্যারিয়ারের পড়তি সময়ে জ্বলে উঠেছেন তায়কোয়ান্দোতে। আনসারের হয়ে এই খেলাটা আগেও খেলেছেন, তবে বড় সাফল্য পেলেন এবারই। ব্যাডমিন্টনে কাল নারী দ্বৈতের সোনা জিতেছেন বৃষ্টি খাতুন ও ফাতেমা বেগম। মেয়েদের দুই সেরা শাপলা আক্তার ও এলিনা সুলতানা অংশ নিচ্ছেন না অবশ্য এবারের আসরে।


Source: kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 15 =