অন্ধকারে দেওহাটা-চড়পাড়া সড়ক, অধিকাংশ সড়কবাতিই জ্বলে না |

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে স্থাপিত অর্ধশতাধিক সড়কবাতি জ্বলছে না। উপজেলা পরিষদ থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় ৫০টি ও উপজেলা পরিষদ থেকে দেওহাটা পর্যন্ত ১৯টি বাতি জ্বলছে না। গত বছর দেওহাটা থেকে চড়পাড়া পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। সড়ক বাতি না জ্বলায় মহাসড়কের ওইসব স্থানে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

মির্জাপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত পৌনে চার কিলোমিটার এবং মির্জাপুর-উয়ার্শী সড়কের দেওলী ব্রিজ এলাকায় ৪১০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। এই উন্নয়নকাজের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে যশোরের মাইনউদ্দিন বাঁশি নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০১৯ সালে কাজটি শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হয়। সড়কের দু’পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ড্রেনের ওপর ঢালাই (ডাকনা) দিয়ে টাইলস স্থাপন করে তিন ফুট প্রশস্ত ফুটপাথ তৈরি করা হয়। আলোকিত করতে লোহার পাইপে মহাসড়কের পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯২টি রঙিন লাইট স্থাপন করা হয়, যার প্রতিটিতে খরচ হয়েছে ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। ১৫ মাসের মধ্যেই অধিকাংশ বাতি বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার রাতে মহাসড়কের দেওহাটা থেকে পুষ্টকামুরী চড়পাড়া পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, যেসব বাতি জ্বলছে সেখানে আলোকিত, আবার যেসব বাতি জ্বলছে না সেখানে অন্ধকার। আবার যেসব বাতি জ্বলছে ওইসব বাতির আলোও কমে গেছে।   

এসময় উপজেলা পরিষদের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রবেশমুখ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসা পর্যন্ত সাতটি খুঁটির বাতি বন্ধ দেখা যায়। ওই এলাকায় কয়েকটি বাতি জ্বললেও বাকি রাস্তা রয়েছে অন্ধকারে। 

মির্জাপুর পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠনের পর রাস্তায় আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় বিদ্যুতের আলোয় রাস্তায় চলাফেরা করি। মহাসড়কে হঠাত আলো বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু ভোগান্তি নয়, ভয়ও কাজ করে। কখন কোন বিপদ সামনে আসে। অন্ধকারে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, তার ঠিক নেই। সড়কবাতি থাকলে এ সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান। 

মির্জাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পৌরসভার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে বাতি জালানোর ব্যবস্থা ছিল। নষ্ট হলে মেরামত করা হতো। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সড়ক বাতি স্থাপন করায় পৌরসভার বাতিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথের স্থাপিত সড়ক বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে কয়েকটি জ্বললেও অধিকাংশ বিকল হয়ে গেছে। যে কয়টি জ্বলছে তারও আলো কমে গেছে। সড়ক বাতি না জ্বলায় মহাসড়কের ওইসব স্থানে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান। 

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাইনউদ্দিন বাঁশির পক্ষে কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা লিটন নামে এক ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগীয় টাঙ্গাইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলীউল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। 

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাতিগুলো অনেকদিন ধরে জ্বলছে না। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাতিগুলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।


Source: kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 8 =