ম্যাখোঁকে বাইডেনের ফোন, ফিরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রদূত |

চীনবিরোধী ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট অকাস গঠনের পর মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার আধা ঘণ্টার ফোনালাপের পর ফ্রান্স তাদের রাষ্ট্রদূতকে ওয়াশিংটনে ফেরত পাঠাতে রাজি হয়েছে। ওইদিন ম্যাখোঁর কাছে ফোন করেছিলেন বাইডেন।

ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সাবমেরিনের প্রযুক্তি নিতে যে চুক্তি করেছে সে বিষয়ে প্যারিসের সঙ্গে আলোচনা না করা ওয়াশিংটনের ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।

আধঘণ্টার ফোনালাপে দুই প্রেসিডেন্ট অক্টোবরের শেষদিকে ইউরোপের মুখোমুখি বৈঠক করার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে তাদের যৌথ বিবৃতিতে জানা গিয়েছে। সেই সাথে ইউরোপের দেশগুলো সন্ত্রাসবাদবিরোধী যেসব অভিযান চালাচ্ছে সেখানে সহায়তা বাড়াতে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সপ্তাহখানেক আগে অকাস গঠনের ঘোষণা দেয়। অকাসের আওতায় প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন তৈরিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রযুক্তি সরবরাহ করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের।

এ কারণে অস্ট্রেলিয়া ৫ বছর আগে ফ্রান্সের কাছ থেকে ১২টি সাবমেরিন নিতে ৪ হাজার কোটি ডলারের যে চুক্তি করেছিল, তা বাতিল করে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তাদের ‘পিঠে ছুরি মেরেছে’ বলে মন্তব্য করেন ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-যুব লে দ্রিয়ান। প্যারিস পরে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতদেরও ডেকে পাঠায় এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা বৈঠকও বাতিল করে দেয়।

ফ্রান্সের সঙ্গে ক্ষোভ কমাতে  দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁকে বাইডেনের ফোনের পর ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠাতে রাজি হলেও অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রদূত ফেরত পাঠানো নিয়ে কিছু বলেনি।

এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউসের ‍মুখপাত্র জেন সাকি দু্ই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ অভিহিত করে ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন।


Source: kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 3 =