খুলে না দিলে তালা ভেঙে হলে ওঠার ঘোষণা জাবি শিক্ষার্থীদের |

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ১ অক্টোবরের মধ্যে হল খুলে দিয়ে স্বশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ।

এই সময়ের মধ্যে হল না খুলে দিলে ১ অক্টোবর তালা ভেঙে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল খুলে দেওয়ার দাবিতে শহীদ মিনার থেকে একটি মশাল মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘উপাচার্য শিক্ষার্থীদেরকে ১৫ দিন ধৈর্য ধরতে বলেছেন। আমাদের প্রথম কর্মসূচি ছিল ১৫ সেপ্টেম্বরে, তখন আমরা ১৫ দিন সময় দিয়েছিলাম। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে। হল না খোলা হলে ১ অক্টোবরে তালা ভেঙে হলে হলে ওঠা হবে। এর জন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।’

এ সময় ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বে শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান শুভ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে যে পরিমাণ শিক্ষার্থী টিকার বাইরে আছে তাদের টিকা দিতে একদিনও সময় লাগবে না। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে কোনো টালবাহানা শিক্ষার্থীরা মানবে না।’

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ঋদ্ধ অনিন্দ্যের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিহান। এ সময় দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ১ অক্টোবরের মধ্যে টিকা গ্রহণকারী শিক্ষার্থদের জন্য সকল হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যুক্ত হন। এ সময় উপাচার্য ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে দ্রুত হল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মশাল মিছিলে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, বায়েজিদ রানা কলিন্স, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল রাফাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, আগামী ১৫ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।


Source: kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × four =