নারী নির্যাতনের ২ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি মহিলা পরিষদের |

রাজধানীর পূর্ব রামপুরার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে এক তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার এবং কুষ্টিয়া জেলার শহরের থানাপাড়া পুরোনো বাঁধ এলাকায় নারীর ঝুলন্ত লাশ, পাশে বিছানায় পড়ে থাকা ৯ মাসের ছেলের শিশু লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনপূর্বক জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে- রাজধানীর পূর্ব রামপুরার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে এক তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, মাস ছয়েক আগে লামিয়ার সঙ্গে হৃদয় নামের এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা জামতলা গলির ছয়তলা বাসার চতুর্থ তলায় হৃদয় ও লামিয়া ছাড়াও শহীদুল নামের একজন ফল বিক্রেতা থাকতেন। লামিয়ার স্বামী হৃদয়কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ বুধবার বেলা ১১টার দিকে লামিয়ার বোন মাকসুদা আক্তার জানতে পারেন লামিয়া মারা গেছেন। এরপর তাঁরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ এসে রাজধানীর পূর্ব রামপুরার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কুষ্টিয়া জেলার শহরের থানাপাড়া পুরোনো বাঁধ এলাকা থেকে ঘরের ভেতর মায়ের লাশ ঝুলন্ত, পাশে বিছানায় পড়ে ছিল ৯ মাসের ছেলের শিশু লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়ার গড়াই নদসংলগ্ন থানাপাড়ার পুরোনো বাঁধে স্বামী রতনের বাড়িতে বসবাস করতেন আকলিমা খাতুন। স্বামীর বাড়িতে সংস্কারকাজ চলায় গতকাল ২১.০৯৬.২০২১ তারিখ মঙ্গলবার রাতে বাবার বাড়িতে শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন আকলিমা। আকলিমার স্বামী তাঁর নিজের বাড়িতে ছিলেন। ২২.০৯.২০২১ তারিখ ভোরে আকলিমার লাশ ঝুলন্ত লাশ ও পাশে বিছানায় শিশু জিমের নিথর দেহ পড়ে আছে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানালে পুলিশ নারী ও শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতায় লক্ষ্য করছে যে, পারিবারিক সংিহসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পারিবারিক সহিংসতার কারণে নারী ও শিশুরা বিভিন্নভাবে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। কখনো কখনো আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমানে বাসস্থান, রাস্তা-ঘাট, গণপরিবহণসহ সর্বত্র নারী ও শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরণের নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নারী ও শিশুর স্বাধীন জীবন ও চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এরূপ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যার নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সেইসাথে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০ এর যথাযথ বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণারয়ের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে- বলা হয় বিবৃতিতে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার এবং নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তরুণী এবং নারী ও শিশুর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনে ব্যবস্থাগ্রহণসহ দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় বিবৃতিতে। একইসাথে তরুণী এবং নারী ও শিশুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিকরণের দাবি জানাচ্ছে। সেইসাথে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সারাদেশে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে- বলা হয় বিবৃতিতে।


Source: kalerkantho

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 13 =